সিরাজগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা সাংসদ হিসেবে শপথও গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমও রয়েছেন। স্থানীয় লোকজন আশা করছেন, আবারও তাঁকে মন্ত্রী করা হবে। তবে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেটিই দেখার বিষয়।
বিজয়ী অন্য পাঁচজন সাংসদকেও মন্ত্রী করার দাবি উঠেছে। স্থানীয়ভাবে আলাপ-আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। গতকাল শুক্রবার জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর ও সদর উপজেলার আংশিক) আসনে সপ্তমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে এবারও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখতে চান। মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে। তাঁকে নিয়ে এলাকাবাসীর গর্ব আছে। প্রত্যাশাও অনেক।
জানতে চাইলে কাজীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক সরকার বলেন, ‘আমরা আশা করছি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বরাবরের মতোই এবারও গুরুত্বপূর্ণ কোনো দপ্তরের দায়িত্ব পাবেন। এখন দেখার অপেক্ষা কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়। তিনি রেকর্ড পরিমাণ ভোট (৩ লাখ ২৪ হাজার ৪২৪) পেয়ে এবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। কাজীপুরবাসীর বিশ্বাস, তাঁরা বরাবরের মতোই মন্ত্রীর এলাকার মানুষ হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন।’
সিরাজগঞ্জ-২ (সদর উপজেলার আংশিক ও কামারখন্দ) আসনে দ্বিতীয়বারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও চিকিৎসক হাবিবে মিল্লাত। তিনি ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জামাতা। সদর আসনের সাংসদ এবার মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হবেন বলে আশাবাদী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষেরা।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে প্রথমবার ভোটের মাঠে নেমেই জয়লাভ করেছেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক মো. আবদুল আজিজ। বিএনপির প্রবীণ নেতা তিনবারের সাবেক সাংসদ আবদুল মান্নান তালুকদারকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি চমক সৃষ্টি করেছেন। তাঁর সমর্থক আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, ‘শিশু বিশেষজ্ঞ এ সাংসদকে আগামী মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার জন্য আমরা দাবি তুলেছি। এখন অপেক্ষা করছি শুভ সংবাদের জন্য। এ আসন থেকে কখনো কেউ মন্ত্রী হননি, তবে এবার হবেন।’
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনেও টানা দ্বিতীয়বার বিজয়ী হয়েছেন সাংসদ তানভীর ইমাম। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমামের ছেলে। তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান নির্বাচনী এলাকার মানুষেরা।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন সদ্য সাবেক সাংসদ আবদুল মজিদ মণ্ডলের ছেলে আবদুল মমিন মণ্ডল। যমুনাবিধৌত এ আসনের মানুষও দাবি তুলেছেন তরুণ এই সাংসদকে মন্ত্রী করার।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে দ্বিতীয়বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক উপমন্ত্রী মো. হাসিবুর রহমান। তাঁর সমর্থকেরাও দাবি তুলেছেন তাঁকে মন্ত্রী করা হোক।
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে অনেক সাধারণ মানুষও বলছেন, তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচিত সাংসদকে মন্ত্রী করা হোক। আগামী সোমবার বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ। শেষ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনের সাংসদদের মধ্যে কে কে সেখানে স্থান পান, সেদিন নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মন্তব্য
মন্তব্য করুন প্রথমআলো.কম এ
Sengupta
০৫ জানুয়ারী, ২০১৯
যাদের সাংসদ হবার সুযোগ ছিল না, এখন তারাই কিনা মন্ত্রী হতে চায়! সবাইকে মন্ত্রী করা যায়, যদি ফিবছর ৫০ জনকে মন্ত্রী করা হয়, তাহলে ৫ বছরে ৩৫০ জন সাংসদ মন্ত্রী হতে পারবেন। চলছে সার্কাস !!
Mohammad sirajum Munir
০৫ জানুয়ারী, ২০১৯
প্রতি বছর না হলেও যেভাবে ৫বছর অন্তর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসছে তাতে সবাইকেই একবার হলেও মন্ত্রী করা সম্ভব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
০৫ জানুয়ারী, ২০১৯
এলাকাভিত্তিক মন্ত্রীর দাবি করার কারণ হল, মন্ত্রীমশাই পুরো দেশের মন্ত্রী হলেও নিজ এলাকাকে অগ্রাধিকার দেন। এভাবে চলতে থাকলে, এই দাবি সামনে আরও বেশি করে আসবে। এবং একপর্যায়ে দেশভাগের দাবিও উঠতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
০৫ জানুয়ারী, ২০১৯
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে , আবার কি উনি এখানে তার কাজ অব্যাহত রাখবেন ?
M MASUDUL AMIN
০৫ জানুয়ারী, ২০১৯
নাসিমকে বিএনপি ও খালেদা জিয়া বিষয়ক মন্ত্রী বানানো যেতে পারে
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
০৫ জানুয়ারী, ২০১৯
His son owned a market in USA!
Mohammad sirajum Munir
০৫ জানুয়ারী, ২০১৯
কোন মন্তব্য নয় শুধু একটি তথ্য। রংপুর বিভাগের ৮টি জেলায় দেশের ১০ভাগ মানুষের মধ্যে ১ভাগ মানুষের বাস।মেডিকেল কলেজ দুটি যার মধ্যে নতুনটির জন্ম ১৯৯৩সালে। আর বগুরা, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, জামালপুর,টাংগাইল,জামালপুর,গাজীপু,মানিকগঞ্জ প্রত্যেকটি জেলা পাশাপাশি এবংং প্রত্যেকটিতেই একটি করে মেডিকেল কলেজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
০৫ জানুয়ারী, ২০১৯
brave man.
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
০৬ জানুয়ারী, ২০১৯
ওনাকে যে কোন মন্ত্রণালয় দিলেই উনি চালাতে পারবেন। গত পাঁচ মন্ত্রী হয়ে গতানুগতিকতার বাইরে আর উনি কী করতে পেরেছেন? কাজেই ওনার যে কোন একটা হলেই হলো।